


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই করতে তৃণমূল জমানায় অনেক বডি ক্যামেরা কেনা হয়েছিল। সেখানেই বড়োসড়ো দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, উন্নত মানের ক্যামেরার বদলে কেনা হয়েছে বেসিক বডি ক্যাম, যাতে সিংহভাগ অত্যাধুনিক সুবিধা নেই। কার্যকারিতাও অত্যন্ত কম। পুলিশের পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের টাকায় কেন বেসিক ক্যামেরা কেন কেনা হল, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গে গুজরাত পুলিশের ব্যবহার করা ‘অ্যাক্সন বডি ওর্ন ক্যামেরা’ কেনার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য। কেন্দ্র আধুনিকীকরণের টাকা ছাড়লেই এগুলি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে খবর।
থানা বা রাস্তায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়া থেকে শুরু করে অভব্য আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে নানা সময়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বা বিক্ষোভরত জনতার সঙ্গে খারাপ আচরণ বা মারধর করেছেন পুলিশকর্মীরা—এমন অভিযোগ একাধিক দল তুলেছে। এসব অভিযোগ কতটা যথার্থ, তা যাচাই করতে থানা বা ট্রাফিকে কর্মরত পুলিশকর্মীদের জন্য বডি ক্যাম ব্যবহার শুরু করে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতেও একই নিয়ম বলবৎ হয়। তৃণমূল আমলে কেনা বডি ক্যামগুলির ছবি ও অডিয়ো স্পষ্ট না হওয়ায় অভিযোগ যাচাইয়ে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু ভয়ে কেউ এনিয়ে মুখ খোলনি বলে দাবি। পালাবদলের পর এই বডি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেন পুলিশকর্তারা। সেখানে ধরা পড়ে, ক্যামেরাগুলি আদতে বেসিক বডি ক্যামেরা। তখন বলা হয়েছিল, এই ক্যামেরা সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ। বাস্তবে সেগুলি অত্যন্ত সস্তা বা নিম্নমানের। এখানেই অভিযোগ, আধুনিকীকরণে জন্য কেন্দ্রের দেওয়া টাকা নয়ছয় হয়েছে তৃণমূল সরকারের আমলে। আধিকারিকরা প্রাথমিকভাবে জানতে পারছেন, ক্যামেরা কেনার ক্ষেত্রে কাটমানি লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। ক্যামেরা কেনার বরাত কাকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে খবর।
এদিকে, রাজ্যের নতুন সরকার পুলিশের পরিকাঠামো ঢেলে সাজার পরিকল্পনা নিয়েছে। সেই কারণে গুজরাত পুলিশের ব্যবহার করা অত্যাধুনিক অ্যাক্সন বডি ওর্ন ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা হয়েছে বলে রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর। এই ক্যামেরায় ঝকঝকে ছবির সঙ্গে স্পষ্ট অডিয়ো পাওয়া যাবে। এমনকি, রাতে অল্প আলোতেও এই ক্যামেরা পরিষ্কার ছবি তুলে ধরবে। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যাবে খুব সহজেই। তাছাড়া, এই ক্যামেরার মাধ্যমে রিয়েল টাইম ডেটা পাওয়া সম্ভব। লাইভ স্ট্রিমিং হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যাবে ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলার রক্ষার ডিউটিতে ভিড়ের চাপে এই ক্যামেরা আলাদা করে ‘অন’ করতে হবে না। এমনকি, এই ক্যামেরায় থাকা একটি বিশেষ বোতাম টিপে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলি দ্রুত পর্যালোচনা করে নিতে পারবেন অফিসাররা।