


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার ডোরিনা ক্রসিংয়ে নিটের প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে যে মিছিল হয়েছিল, তাতে কি বহিরাগতরা ছিল? গুন্ডাদমন আইনে রাজ্যে প্রথম গ্রেপ্তারির পর এমনটাই দাবি করেছে লালবাজার। পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার শহরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ মিছিলে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বহিরাগতরা। শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত গোয়েন্দা বিভাগের গুন্ডাদমন শাখা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে তোলা হলে ২ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধৃতদের নাম, পরিচয় সহ ছবি দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) চিহ্নিতকরণের জন্য পাঠায় লালবাজার। পালটা চিঠি দিয়ে সিজেপি জানিয়েছে, ধৃতরা কেউ সংগঠনের কর্মী নন। তাহলে কাদের উস্কানিতে বাইরে থেকে প্রতিবাদ মিছিলে ঢুকল তারা? ময়নাতদন্তে লালবাজার।
শনিবার বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সাংবাদিক হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুন্ডাদমন আইন যুক্ত করে সাতটি মামলা করা হয়েছে। রাতের মধ্যেই চিহ্নিতদের মধ্যে থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। কলকাতার গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগরওয়াল জানান, ধৃতদের নাম ইরফান খুরশিদ, আর্শাদ আলি, মহম্মদ মইনুদ্দিন, মহম্মদ আলমগির, ইমরান আহমেদ ওরফে গোপি, খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু, জামির আহমেদ ওরফে মিঙ্কু, মহসিন খান, দীপক ভৌমিক, মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজ। সূত্রের খবর, মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজ গার্ডেনরিচ ও মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা। পুলিশ খোঁজ শুরু করতেই তারা পালানোর চেষ্টা করে। ঝাড়খণ্ডের দিকে পালানোর চেষ্টা করছিল। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়। শনিবার রাত পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তারের পরও তল্লাশি জারি রাখে লালবাজার। রবিবার সকালে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নাম শাহবাজ খান, সলমন হোসেন ও জহিরুদ্দিন মাল। তারা কড়েয়া, রাজাবাগান ও ভাঙড়ের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, উস্কানি দিয়েই তাদের মিছিলে ঢোকানো হয়েছে। নেপথ্যে প্রাক্তন শাসকদল। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য গোবরডাঙা, দেগঙ্গা ও বারুইপুর থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, এদিন আদালত চত্বরে হাজির হন এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী ও সম্পাদক দেবাঞ্জন দে।