


সংবাদদাতা, বজবজ: পুজালিতে সিইএসসি’র থার্মাল পাওয়ারের শ্রমিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আরএসএস’এর শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘের সঙ্গে বিজেপি স্থানীয় নেতৃত্বের বিরোধ এখন চরমে। কার হাতে থাকবে থার্মাল পাওয়ারের শ্রমিক সংঠনের রাশ, তা নির্ধারণই বিরোধের কারণ। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষই সংগঠন ও দলের বিভিন্নস্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছে। কোনো সমাধানসূত্র অবশ্য বের হয়নি। পুজালি শহর জুড়ে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা এখন ঘরে ঘরে। আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন বিএমএস’এর দাবি, শ্রমিক সংগঠন করার অনুমোদন তাদের হাতে রয়েছে। বিজেপির হাতে নেই। স্থানীয় পদ্ম শিবিরের কথায়, এলাকায় বিএমএস কোনো কালে ছিল না। এতকাল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি’ই লড়াই করে এসেছে। স্বাভাবিকভাবে শ্রমিকরা চাইছেন, বিজেপি’ই হোক তাঁদের সুখ-দুঃখের শরিক। ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক থাকুক বিজেপির কাছে। ঘটনা হল, বাম আমল থেকেই সিইএসসি-র স্থায়ী ও অস্থায়ী দু’টি শ্রমিক সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করে আসছে তৃণমূলের এক সময়ের দাপুটে নেতা ফজলুল হক ও তাঁর অনুগামীরা। তিনি এক সময় পুজালি পুরসভার চেয়ারম্যানও ছিলেন। রাজ্যে পালাবদল হতেই শ্রমিক সংগঠনের সমস্ত সদস্য দাবি তুলেছেন, তৃণমূল সঙ্গ ত্যাগ করে আদি বিজেপির পুজালি মণ্ডল কমিটি-২ সভাপতি ধীমান মণ্ডলের শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার।
এ নিয়ে এক প্রস্থ আলোচনা হয়েছে। তাতেই বেকায়দায় পড়ে যায় ফজলুল হক গোষ্ঠী। অভিযোগ, বিজেপি’র হাতে যাতে ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ না যায়, এজন্য ফজলুল হক গোষ্ঠী বিএমএসের মহেশতলার এক নেতার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ করে, এমনকি অলিখিত চুক্তি হয় অভিযোগ। সূত্রের খবর, চুক্তির শর্ত হল, শ্রমিক সংগঠনের সাইনবোর্ড বিএমএসের নামে থাকবে। কিন্তু সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ফজলুল হক গোষ্ঠীর হাতে রাখতে হবে। এতেই বিজেপির ধীমান মণ্ডল শিবির এবং অনুগত শ্রমিকরা প্রতিবাদে নেমেছেন। বিএমএসের সাইনবোর্ডের আড়ালে তৃণমূলের ফজলুল হক গোষ্ঠীর কোটি কোটি টাকা তোলাবাজির কারবার মানবে না বলে জানিয়েছে ধীমানবাবুর শিবির। শ্রমিকদের শোষণ ও বঞ্চনা আর মানবে না বিজেপি। ধীমানবাবু নিজে অবশ্য এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।