


সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং চরম অস্বস্তিকর ইস্যুতে রীতিমতো বিব্রত হল বিজেপি তথা মোদি সরকার। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে শুরুতেই বললেন, বিজেপি তাঁর সঙ্গে নিন্দাজনক অস্পৃশ্যতার আচরণ করেছে। অনগ্রসর জাতিকে একসময় যেভাবে অস্পৃশ্যতার শিকার হতে হয়েছে, সেই প্রবণতা আজও রয়েছে বিজেপির মধ্যে। খাড়্গে বলেন, উত্তরাখন্ডের হলদুয়ানিতে একটি দলীয় সভায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি। চলে আসার পর সেই মঞ্চকে বিজেপি শুদ্ধকরণ করেছে গঙ্গার জল দিয়ে এবং যজ্ঞ করে। এই অভিযোগে রাজ্যসভায় রীতিমতো চমকের সৃষ্টি হয়। বিরোধীরা শেম শেম ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। বিজেপি সদস্যরা পালটা প্রতিবাদ করেন। খাড়্গের দাবি, আজকের ভারতে আমার সঙ্গেও যদি এই ব্যবহার করা হয়, তাহলে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সাধারণ মানুষকে কী চোখে দেখা হয় সেটা সহজেই অনুমেয়। তিনি দাবি করেন, এই অপমান, অসম্মান কাম্য নয়। খাড়্গে বলেন, এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও নিজেকে দলিত পরিচয়ে ভূষিত করে রাজনীতি করিনি। আমার দরকার পড়েনি নিজেকে দলিত প্রতিপন্ন করে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার। অথচ আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি, উত্তরাখণ্ডের ওই সভায় আমি কোনো ধর্ম সম্পর্কে, জাতপাত সম্পর্কে, কিছুই বলিনি। সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে বলেছিলাম। অথচ সেই কথা বলার অপরাধে আমি অস্পৃশ্য কেন হয়ে গেলাম জানি না। খাড়্গের এই বক্তব্যের পর রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন বলেন, এই ঘটনা নিন্দনীয়। তদন্ত হওয়া দরকার। রাজ্যসভার নেতা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডাও বলেন, অবশ্যই এরকম কিছু হয়ে থাকলে নিন্দনীয়। আমাদের দল এরকম কোনো রাজনীতির পক্ষপাতী নয়। যদি এরকম হয়ে থাকে তাদের শাস্তি হওয়া দরকার। তাই তদন্ত হবে। প্রসঙ্গত আগামী বছরই উত্তরপ্রদেশের ভোট। স্বভাবিকভাবেই জাতপাত নিয়ে, বিশেষ করে দলিত বিরোধী কোনও বার্তা গেলে সেটা বিজেপির জন্য যথেষ্ট নেতিবাচক। সেই কারণেই জগৎপ্রকাশ নাড্ডাসহ বিজেপি নেতৃত্ব কঠোর বার্তা নিজেরাই দিয়েছেন।
সংসদের বাদল অধিবেশন এদিন সমাপ্ত হয়ে গেল। পুনরায় সংসদের অধিবেশন হবে শীতকালীন। মোদি সরকারের কাছে এই অধিবেশন ছিল যথেষ্ট নিষ্ফলা। বিরোধীদের চাপে লাগাতার বাধাদান ঘটেছে লোকসভা ও রাজ্যসভায়। ২০ জুলাই থেকে কয়েকদিন ছাড়া শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে হয়নি অধিবেশন। এছাড়া অধিবেশন চলাকালীন যন্তরমন্তরসহ দেশজুড়ে জেন জি আন্দোলন ও শেষ পর্যন্ত ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে যথেষ্ট কোণঠাসা হয়েছে সরকার। একইভাবে অপারেশন লোটাস শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ডিলিমিটেশন বিল, মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল, ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ইত্যাদি বহু চর্চিত কোনও বিলই আনা হয়নি। বিরোধীদের প্রবল বাধা সত্ত্বেও লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ করানো হয়েছে মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস রেগুলেশন বিল। কিন্তু এফসিআরএ বিল পাঠাতে হয়েছে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে।