


সংবাদদাতা, ডোমকল: প্রথমে পিছু নেওয়া। এরপরে গৃহশিক্ষক পরিচয় দিয়েই বাড়িতে প্রবেশ। পরিবারের লোকজন না থাকার সুযোগেই ঠিক এভাবেই বাড়িতে ঢুকে চতুর্থ শ্রেণির এক নাবালিকাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ পেয়েই ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম মিন্টু কুন্ডু। তার বাড়ি জলঙ্গির জয়কৃষ্ণপুরে। ওই ঘটনা জানাজানি হতেই বৃহস্পতিবার ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে জলঙ্গির একটি এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। নাবালিকার বাবা কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। আর মেয়েকে নিয়ে মা এলাকাতেই থাকেন। জলঙ্গির একটি এলাকার বাসিন্দা তাঁরা। পরিবারের দাবি, এদিন সকালে মাঠে সবজি নিতে গিয়েছিলেন ওই নাবালিকার মা। সেই সময় ওই নাবালিকা প্রতিবেশী বোনের সঙ্গে খেলছিল। অভিযোগ, ওই নাবালিকার জন্যই এলাকায় আসে বৃদ্ধ। এরপরে নিজেকে গৃহশিক্ষক পরিচয় দিয়ে তাকে পড়ানোর কথা বলে। শিশুমনে বৃদ্ধর মতলব বুঝতে না পেরে ওই নাবালিকা বৃদ্ধকে বাড়িতে চেয়ারে বসতে দেয়। অভিযোগ, এরপরই বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ওই নাবালিকাকে একা পেয়ে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে বৃদ্ধ। ভয়ে সেই নাবালিকা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা জড়ো হয়। সেইসময় ওই বৃদ্ধকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ওই বৃদ্ধকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই নাবালিকার পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে। এরপরে ওই ঘটনা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।
নাবালিকার মা বলেন, ওর বাবা কেরলে কাজ করে। আমি মাঠে সবজি তুলতে গিয়েছিলাম। মেয়ে বাড়ির সামনে আমার দেওরের মেয়ের সঙ্গে খেলছিল। হঠাৎ ওই লোক এসে আমার মেয়েকে বলে, তোকে টিউশন পড়াব। মেয়ে ছোট। অত কিছু বুঝতে না পেরেই ওকে চেয়ারে বসতে দিয়েছিল। এরপরে বই নিয়ে আসার জন্য মেয়েকে বললে সে ঘরে ঢুকতেই ওই লোক আমার মেয়ের ওপরে হামলে পড়ে। নির্যাতন চালায়। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। ওর কড়া সাজা হোক এটাই চাই। স্থানীয় বিধায়ক বাবর আলি বলেন, আমি আগে ওই ঘটনার বিষয়ে শুনিনি। এখনই জানলাম। ভীষণ ন্যক্কারজনক ঘটনা। পুলিশ প্রশাসনকে বলব উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিতভাবে অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।