


নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আগামী বছরের শুরুতেই ভ্রমণ পিপাসুদের নতুন উপহার দিতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাতেই উদ্বোধন হতে চলেছে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো। ভবনের সত্তর শতাংশ কাজ প্রায় শেষ, জানিয়েছেন বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। ফায়ার সেফটি সহ নতুনরূপে সাজানো-গোছানো বাংলোয় থাকছে অনেক বেশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
হলং শুধুমাত্র একটি বনবাংলো নয়, প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে হলং বনবাংলো একটি আবেগের জায়গা। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পুজোর ছুটি কাটানোর জন্য হলং ছিল অন্যতম ডেস্টিনেশন। জলদাপাড়া বন বিভাগের জলদাপাড়া ও হলং রেঞ্জে একসময় কর্মরত বহু বনকর্মী ও তাঁদের পরিবারের কাছে হলং বাংলোটি ছিল একটি আবেগের জায়গা।
বছর দু’য়েক আগের ঘটনা। ২০২৪ সালের ১৮ জুন। বাইরে তখন অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল। কোনো এক অজানা কারণে ঘটা অগ্নিকাণ্ডের জেরে চোখের নিমেষে ভস্মীভূত হয়ে যায় হলং কাঠের বনবাংলোটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। যদিও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছিল, শর্টসার্কিট থেকেই ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। কারণ বাংলোর ভিতর-বইরে প্রায় সবই ছিল দাহ্য পদার্থ। দেশের বিভিন্ন মহল থেকে পুনরায় হলং বনবাংলো তৈরির করার দাবি জোরালো হয়।
বনদপ্তরও নতুন হলং বাংলো তৈরির উদ্যোগ নেয়। হুবহু পুরনো মডেলেই নতুন করে হংল বাংলো তৈরির কাজ শুরু করে রাজ্য সরকার। তবে দেখতে এক হলেও কাঠের পরিবর্তে নতুন ইট, বালি, পাথর, সিমেন্ট দিয়ে কংক্রিটের বাংলো তৈরি হচ্ছে। যা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।
যদিও বনমন্ত্রী জানান, সবদিক দেখেশুনেই নতুনরূপে সাজছে হলং বনবংলো। আশা করছি, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে হলং বাংলোর খুলে দিতে পারব আমরা।
কেমন হচ্ছে নতুন হলং বনবাংলো? বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঠের তৈরি পুরনো বাংলো এবং কংক্রিটের তৈরির নতুন বনবাংলোর মধ্যে বিল্ডিং মেটেরিয়াল ছাড়া বিশেষ কোনো পার্থক্য থাকছে না। তবে বাংলোর ভিতরের অংশে কাঠের প্যানেল বসানো হবে। যা সম্ভবত ধূপিকাঠ দিয়েই তৈরির চিন্তাভাবনা রয়েছে। নতুন বাংলোটি তৈরি করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা।