


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ডায়রিয়া বা সর্দি-কাশি নিয়ে ভরতি হওয়া রোগীদেরও জিবি সিন্ড্রোম বা প্যারালাইসিস রোগী দেখিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বিপুল টাকা নয়ছয় হয়েছে। জিবি সিনড্রোম রোগীদের প্রায় এক লক্ষ টাকা দামের ইনজেকশন দিতে হয়। সেটাও কেনা হয়েছে বলে খাতায় কলমে বিল দেখানো হত। ওষুধ, ইনজেকশন সহ রোগী পিছু দু’লক্ষ টাকা বিল সরকারের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পেরেছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কয়েকজন চিকিৎসক এধরনের ফাইলে সই করতেন। বিলের ২৫শতাংশ টাকা কলকাতা থেকে আসা একটি চক্র নিয়ে যেত। বাকি টাকা চিকিৎসক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ভাগাভাগি করে নিতেন। জ্বর বা সর্দি-কাশি নিয়ে ভরতি হওয়া রোগীদের অল্প কিছু টাকা দেওয়া হত। কিন্তু জিবি সিন্ড্রোম লেখা হতে কেন? এক আধিকারিক বলেন, এটা এক ধরনের স্নায়ু রোগ। অপারেশনের দরকার হয় না। ওষুধ, ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। তাই এই রোগ দেখালে চ্যালেজ্ঞের মুখে পড়তে হত না। সেই সময় এই রোগের জন্য মোটা টাকা বিল সরকার দিত। ‘সেটিং’ থাকায় বিল পেতে অসুবিধা হত না। এই রোগ দেখিয়ে ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পান্ডে বলেন, সেই সময় স্বাস্থদপ্তরের মদতে একটি চক্র তৈরি হয়েছিল। তাদের কমিশন দিলে কোনো বিল আটকাত না। মাসের শেষে তাঁরা টাকা নেওয়ার জন্য জেলায় জেলায় বেরিয়ে পড়তেন। অ্যাটার্চি ভরে টাকা নিয়ে যেতেন। এই চক্রে যে বা যারা যুক্ত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হবে।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, জ্বর বা ডায়ারিয়ার চিকিৎসা করতে আসা রোগীরা জানতেই পারতেন না, তাঁরা কখন খাতায় কলমে প্যারালাইসিস রোগী হয়ে উঠতেন। অনেককে নার্সিংহোমে ভরতি হতে হত না। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দিলে তাঁরা ২০-২৫ হাজার টাকা কমিশন পেয়ে যেতেন। ওই কার্ডের বাকি টাকা একশ্রেণির চিকিৎসক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ আত্মসাৎ করতেন। একসময় দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছানোয় সরকার স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নিয়ম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। একসময় অনেকে মজা করে বলতে শুরু করেন, ২০২১-২০২৩ সালের মধ্যে এরাজ্যের মতো এত জিবি সিন্ড্রোম রোগী দেশের অন্য কোথাও দেখা যায়নি। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কালীপুজোর পর সরকার অ্যাকশনে নামছে। সরকারি টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে অনেক চিকিৎসক বা ভুয়ো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলা হয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে।