


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কম্বোডিয়ায় থাকা সাইবার জালিয়াত চক্রের পান্ডাদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে মহেশতলা থেকে চন্দ্রকান্ত মিশ্র নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করল উত্তরাখণ্ড পুলিশ। উত্তরাখণ্ডের একটি সংস্থা ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছিল। সেই টাকা জমা পড়েছিল হিমাদ্রি চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। হিমাদ্রির নথি হাতিয়ে তা দিয়ে ওই অ্যাকাউন্ট খুলেছিল চন্দ্রকান্ত মিশ্র নামের এক যুবক। এই তথ্য জানার পর শনিবার রাতে উত্তরাখণ্ড পুলিশের সাইবার জালিয়াতি শাখার গোয়েন্দারা তল্লাশি চালিয়ে মহেশতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে চন্দ্রকান্তকে গ্রেপ্তার করেন। তার কাছ থেকে মিলেছে কলকাতা পুরসভার জাল ট্রেড লাইসেন্স। উত্তরাখণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর, সাইবার জালিয়াতরা সে রাজ্যের এক সংস্থার ম্যানেজারের সিম ক্লোন করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলে। ডিপিতে ম্যানেজারের ছবি লাগানো হয়। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে কোম্পানির এক আধিকারিককে মেসেজ পাঠিয়ে বলা হয়, ব্যবসার প্রয়োজনে এখনই ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে হবে। সংস্থার ওই আধিকারিক ম্যানেজারের মেসেজ দেখে টাকা ট্রান্সফার করে দেন। পরে ম্যানেজার জানতে পারেন, সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা উঠে গিয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ উত্তরাখণ্ডের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই টাকা জমা পড়েছে হিমাদ্রি চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে নথি নিয়েছিল চন্দ্রকান্ত নামে এক যুবক। হিমাদ্রি এই টাকার বিষয়ে যে কিছুই জানেন না, সেব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর চন্দ্রকান্তের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। জেরায় সে জানিয়েছে, ঋণ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে সে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে নথি জোগাড় করত। পরে তা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ভাড়া দিত সাইবার জালিয়াতদের। তার সঙ্গে কম্বোডিয়ার সাইবার প্রতারকদের পরিচয় হয়েছিল অনলাইনে। তারা তাকে বলেছিল, জালিয়াতির টাকা পার্ক করার জন্য অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিলে মোটা টাকা কমিশন মিলবে। তারপর থেকেই সে এই কাজ করছিল।