


অর্ক দে, কলকাতা: কলকাতা পুরসভা এলাকার ডিলিমিটেশন বা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের খসড়া প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। আজ, সোমবার সেই রিপোর্ট পুর প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডের কাছে জমা পড়ার কথা। সূত্রের খবর, পুরসভার ১ থেকে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড ভেঙে ১৩০টি ওয়ার্ড গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে খসড়ায়। অর্থাৎ, পুরসভার প্রথম ১৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ‘অ্যাডেড এরিয়া’ হিসাবে চিহ্নিত এলাকা থাকছে না। প্রসঙ্গত, পুরসভার ১০১ থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘অ্যাডেড এরিয়া’ বা সংযুক্ত এলাকা ধরা হয়। কারণ, এই অংশ প্রশাসনিকভাবে কলকাতা পুরসভার সঙ্গে জুড়েছে অনেক পরে। খসড়ায় এই ১০১ থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ড ভেঙে আরও ৭০টি ওয়ার্ড করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পুর-প্রশাসক রিপোর্ট খতিয়ে দেখে তা পাঠিয়ে দেবেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পূর্ব ঘোষণা মতো আগামী ৩১ জুলাই খসড়া প্রকাশ করবে দপ্তর। তারপর নেওয়া হবে শহরবাসী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে প্রকাশ করা হবে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত তালিকা। পুরসভার সার্ভেয়ার বিভাগ এই খসড়া প্রস্তুত করেছে। ফিল্ড সার্ভের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বরোভিত্তিক কমিটি। এখন তাদের দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে মূল ডিলিমিটেশন কমিটি। সূত্রের খবর, প্রতিটি বিধানসভা ধরে আলাদা আলাদা ফাইল হয়েছে। কারণ, বিধানসভা অপরিবর্তিত রেখেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, মূল কলকাতার মানচিত্র বজায় রেখে ডিলিমিটেশন করতে গিয়েই ১ থেকে ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানা অপরিবর্তিত রাখতে হচ্ছে। এই নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই তৈরি করতে হচ্ছে ১৩০টি ওয়ার্ড। কারণ, কলকাতার বাকি অংশ অর্থাৎ ১০১ থেকে ১৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের ল্যান্ড দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্বের আওতাধীন। এমন একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতেই ‘অ্যাডেড এরিয়া’কে আলাদা করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
ডিলিমিটেশনে ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও বাড়ছে না বরোর সংখ্যা। তবে বাড়ছে বিভিন্ন বরোর এলাকা। বর্তমানে পুরসভার যে বরো বিন্যাস রয়েছে, সেখানে ওয়ার্ড বণ্টনে সামঞ্জস্য নেই। যেমন, ১ নম্বর বরোয় ৯টি ওয়ার্ড থাকলেও ১০ নম্বর বরোয় আছে ১২টি ওয়ার্ড। তাই ডিলিমিটেশনে প্রত্যেকটি বরোয় ওয়ার্ড সংখ্যা একই রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৬টি বরোর ৮টিতে ১২টি ও বাকি ৮টিতে ১৩টি করে ওয়ার্ড রাখা হবে। তবে ছোটো ওয়ার্ড বেশি হলে কোনো কোনো বরোতে সর্বোচ্চ ১৪টি ওয়ার্ডও রাখা হতে পারে। পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘কোন ওয়ার্ড কোন বরোতে থাকছে, সেটা প্রাথমিকভাবে ঠিক করে দেওয়া হবে। নির্বাচনের পর পুরসভার আইন অনুসারে ফের বরো বিন্যাসের কাজ করতে পারে নতুন বোর্ড।’ সবকিছু ঠিকঠাক চললে নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের শুরুতে কলকাতায় পুরভোট হবে। সেক্ষেত্রে ডিলিমিটেশনের পর ২০০টি ওয়ার্ড নিয়েই হবে পুর নির্বাচন।