


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আসন্ন দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়ে উদ্বেগে হুগলির বিগ বাজেটের পুজো কমিটিগুলি। পুজো উদ্যোক্তাদের সিংহভাগেরই বক্তব্য, এবার স্পনসরার বা বিজ্ঞাপনদাতারা পুজোর আয়োজনে পয়সা ঢালতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে, বিপুল আয়োজনের ব্যয়ভার সামাল দেওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের একাংশ ইতিমধ্যেই বাজেট ছাঁটতে শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ বিজ্ঞাপনদাতারা ফিরবেন, এই আশায় সহজে হাল ছাড়তে নারাজ। তাঁরা আরও কিছুটা সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে। সব মিলিয়ে এবারের পুজোর জৌলুস ফিকে হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
কেন বিজ্ঞাপনদাতারা মুখ ফেরাচ্ছেন? এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে সংকট নিয়ে চুঁচুড়া থেকে শ্রীরামপুর, ডানকুনি থেকে সিঙ্গুর, সর্বত্রই পুজোর উদ্যোক্তরা প্রায় একমত। চুঁচুড়ার অন্যতম বড়ো বাজেটের এক পুজো কমিটির কর্তা জয়দেব অধিকারী বলেন, আমাদের তিনজন বড়ো স্পনসরার এবার বিজ্ঞাপন দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। পুজোর জৌলুসের অনেকটাই ওই বিজ্ঞাপনদাতাদের আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভর করত। ফলে, আমাদের আয়োজনের বহর কমিয়ে আনতে হচ্ছে। তবে বছরে একবার পুজো, তাই জৌলুস কমাতে ক্লাবের অনেক সদস্যই নারাজ। যদিও টাকা কোথায় থেকে আসবে, তা নিয়ে চিন্তিত তাঁরা। শ্রীরামপুরে বঙ্গলক্ষ্মী বাই লেনের পুজো চর্চিত পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। সেখানকার সম্পাদক পার্থ দাস বলেন, বিজ্ঞাপনদাতারা এবার হাত তুলে নিয়েছেন। তাঁরা টাকা ঢালতে চাইছেন না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে জাঁকজমকের পুজো করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞাপনদাতাদের টাকাতেই জৌলুস আসে। তবে আমাদের ভাবতে হচ্ছে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।
ডানকুনির এক পুজো উদ্যোক্তা অবশ্য বলছেন, বিজ্ঞাপনদাতা বা স্পনসরার এবার মুখ ফিরিয়েছে, একথা ঠিক। কিন্তু এখনও কিছুটা সময় আছে। আমরা বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ করে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছি। শেষ পর্যন্ত সেসব ব্যর্থ হলে তখন কী করবেন, তা ওই পুজো উদ্যোক্তা স্পষ্ট করতে পারেননি। হুগলি জেলাজুড়ে শতাধিক বিগ বাজেটের পুজো হয়। চুঁচুড়া থেকে ব্যান্ডেল, শ্রীরামপুর থেকে ডানকুনি পর্যন্ত তার বিস্তার। এমনকি গত ছ’সাত বছরে হরিপাল, সিঙ্গুরের মতো গ্রামীণ এলাকায় সংখ্যায় কম হলেও বড়ো পুজোর আয়োজন শুরু হয়েছে। খুব কম সংখ্যক পুজো কমিটির নিজস্ব আয়ের জায়গা আছে। আর্থিক সাহায্যের পরিসর কমে আসায় চিন্তায় উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, রাজ্যে পালাবদলের প্রভাব পড়েছে পুজোর আয়োজনে। বিজ্ঞাপনদাতারা এই বাজারে টাকা দিয়ে বিতর্কে জড়াতে চাইছেন না। ফলে হুগলিতে জাঁকজমক পূর্ণ পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।