


নয়াদিল্লি: আধুনিক গণতন্ত্রে ‘সমতা’র ধারণা ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডে ম্যাগনা কার্টার মাধ্যমে আসেনি। বরং, সমতার ধারণা প্রাচীন ভারতে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেই ছিল। জানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে চতুর্দশ আন্তর্জাতিক আইন ফোরামে গত বুধবার ভাষণ দেন তিনি। সেখানেই বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, আইনে যে সমতার অধিকারের কথা বলা হয়েছে, তা যেন অন্তঃসারশূন্য ঘোষণা না হয়। এর মাধ্যমে মানুষের প্রকৃত অধিকারকে নিশ্চিত করতে হবে। ‘সমান ন্যায়বিচার’ ও ‘সমান আইন’—এগুলি কোনো আনুষ্ঠানিক শব্দ নয়; বরং এগুলি এমন সব শর্ত, যার ওপর ভিত্তি করেই একটি ব্যবস্থাকে ‘আইন’ বলে উল্লেখ করা যায়। ভৌগোলিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যই সমতা প্রদানে প্রধান বাধা বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
এই প্রসঙ্গেই ম্যাগনা কার্টার কথা টেনে আনেন প্রধান বিচারপতি। ১২১৫ সালে ইংল্যান্ডের রাজা কিং জনের সঙ্গে বিদ্রোহী ব্যারনদের একটি চুক্তি হয়। সেটিই ম্যাগনা কার্টা বলে পরিচিত। এই চুক্তিতেই প্রথমবার উল্লেখ করা হয়, স্বয়ং রাজাও আইনের ঊর্ধ্বে নন। রাজা ইচ্ছামতো ক্ষমতা ভোগ করতে পারবেন না। এছাড়া বিনা বিচারে কাউকে বন্দি না করা এবং নিরপেক্ষ বিচারের ব্যবস্থার উল্লেখও ম্যাগনা কার্টায় করা হয়। বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হল, সমতার ধারণার শিকড় কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে নিহিত রয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে লিখিত এই গ্রন্থেই সমতার তত্ত্ব তুলে ধরা হয়।’ ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।