


সংবাদদাতা, কাটোয়া : কালী পুজোর আগে ভূত চতুদর্শীতে ঘরে চোদ্দো প্রদীপ দেওয়ার রীতি রয়েছে। তাই এখন রঙবেরঙের নানা প্রদীপ আঁকার কাজ বেড়েছে কাটোয়া মহকুমা জুড়ে। কালীপুজোও আশা জোগাচ্ছে বাংলার অঙ্কন শিল্পীদের। নানা নকশা আঁকা মাটির নানা ধরনের প্রদীপের চাহিদা বাড়ছে কাটোয়ায়৷ পাশাপাশি পুজোর জন্য নানা পৌরানিক কাহিনী আঁকা পোড়া মাটির বিভিন্ন ঘটে পটের মাধ্যমের প্রচলন আছে। তাই কাটোয়ায় এবার পোড়া মাটির ঘট, কলস এঁকেই লক্ষ্মীলাভে মরিয়া শিল্পীরা।
কালী পুজো আসতেই কাটোয়া মহকুমা জুড়ে বাড়ছে শিল্পীদের কদর। মাটির প্রদীপকে রঙবেরঙের নক্সায় নয়া রূপ দেওয়া হচ্ছে। আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে পোড়ামাটির তৈরি ঘট, কলস ও প্রদীপ। এবার প্লাস্টিক ছেড়ে মাটির প্রদীপেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন অঙ্কন শিল্পীরা।
জানা গিয়েছে, অনেকেই পুজোয় পিতল বা কাঁসার তৈরি ঘট ব্যবহার করলেও বাঙালীর পুজোর জন্য সাধারণত চার ধরণের মাটির ঘটেরও প্রয়োজন পড়ে। দেবীঘট, পূর্ণঘট, মঙ্গলঘট প্রভৃতি। এই চারধরনের ঘট বা মাটির হাঁড়ি ভিন্ন ভিন্ন উপাচারে ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, মাটির নানা ডিজাইনের প্রদীপের চাহিদাও এখন বেড়েছে৷ থালা প্রদীপ, খাঁচা প্রদীপ সহ নতুন ডিজাইনের প্রদীপ বাজারে দেদার বিকোচ্ছে।
কাটোয়া মহকুমাজুড়ে প্রচুর শিল্পী রয়েছেন যাঁরা মাটির তৈরি প্রদীপ, ঘট, কলস, হাঁড়ি প্রভৃতির উপর নানা নক্সা ফুটিয়ে তোলেন। পুজো বা বাঙালির বিবাহ অনুষ্ঠানে নক্সা আঁকা ঘট বা হাঁড়ির ব্যবহার হয়। পুজোর আগে এবার শিল্পীরা দিনরাত এক করে মাটির প্রদীপ, ঘটে নানা নকশা, কালীর ছবি ফুটিয়ে তোলেন। শিল্পীরা সাধারণত কুমোরদের কাছে পাইকারি দরে পোড়া মাটির ঘট কিনে আনেন। তারপর সেগুলিতে নক্সা এঁকে দশকর্মার দোকানগুলিতে তা বিক্রি করা হয়। আর সারাবছরের জন্য পুজোর আগে এই মাটির ঘটে এঁকেই সংসার চালান শিল্পীরা।
কাটোয়া শহরের এক নক্সা শিল্পী সঞ্জিত পালের কথায়, মূলত বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকে দুর্গাপুজোর সময় এসব রঙিন ঘট সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তারপর লক্ষীপুজো, জগদ্বাত্রী পুজো, কালীপুজো ইত্যাদি বিভিন্ন পুজোর অনুষ্ঠান তো রয়েছেই। বিয়ের অনুষ্ঠানেও এই নক্সাঘট, প্রদীপের বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এবার আমরাও পুজো কমিটিগুলির কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে তাঁরা প্ল্যাস্টিক বর্জন করে মাটির রঙ করা প্রদীপ, আঁকা ঘট, কলস ব্যবহার করেন। তা যেমন পরিবেশবান্ধব হবে, পাশাপাশি প্লাস্টিকের দূষণও এতে বন্ধ হবে।
মূলত কাটোয়ার মঙ্গলকোট, কাটোয়া ১ ও ২ ব্লক, পূর্বস্থলী ২ ব্লকে প্রচুর এই মাটির প্রদীপ, ঘটের নক্সা শিল্পী রয়েছেন। এবার তাঁরা কালীপুজোর আগে নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে মাটির প্রদীপ, ঘটে এঁকে চলেছেন।
কাটোয়ায় দীপাবলির জন্য মাটির চৌদ্দ প্রদীপ রাঙাচ্ছেন শিল্পীরা।-নিজস্ব চিত্র