


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নামী কোম্পানির বোতলের সিল করা ছিপি খুলে খানিকটা গলায় ঢালার পর জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার দেখলেন, জলে কালো নোংরা ভাসছে। আলোর দিকে ওই জলের বোতল তুলতেই আরও পরিষ্কার দেখাল। সোমবার তমলুকে নিজের অফিসের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে জেলাশাসকের। এরপর জেলাশাসক সঙ্গে সঙ্গে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের অফিসারকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পাশাপাশি এনিয়ে এফআইআর করারও নির্দেশ দিলেন। নামী কোম্পানির সিল করা বোতলে নোংরা জল থাকতে পারে, সেটা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
জেলাশাসক বলেন, আমি ৫০০ মিলিমিটার বোতলের প্রায় অর্ধেক জল খেয়ে নিয়েছিলাম। তারপর দেখি, কালো কিছু রয়েছে। কনজিউমার্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অফিসারকে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছি। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলব, দেখেশুনে জল পান করবেন। নোংরা জল খেলে টাইফয়েড, জন্ডিস সহ নানা ধরনের রোগ হয়। ব্যবসার নামে যারা খারাপ কাজ করছে তাদের শিক্ষা দেওয়া উচিত। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবই।
অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) তানিয়া পারভীন এনিয়ে উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরে জেলার সহকারী অধিকর্তা ইমন মুখোপাধ্যায়কে ফোন করে ওই ঘটনার কথা জানান। এরপরই ফুড সেফ্টি অফিসার মোনিয়া চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জলের নমুনা, ব্যাচ নম্বর সংগ্রহ করা হয়। ওই নমুনা সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া, ওই কোম্পানির পানীয় জলের ডিস্ট্রিবিউটারের গোডাউনেও হানা দেয় প্রশাসন। এই ঘটনায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইমনবাবু জানিয়েছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন খাবারের দোকানে হানা দিচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অফিসাররা। তাঁদের সঙ্গী হচ্ছেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, খাদ্য দপ্তর সহ অন্যান্য বিভাগের অফিসাররা। কোথাও বিষাক্ত রাসায়নিক, আবার কোথাও মারণব্যাধি ডেকে আনার মতো ক্ষতিকারক রং খাবারে মেশানোর ঘটনা সামনে উঠে আসছে। ফ্রিজ খুলতেই বাসি-পচা মাছ, মাংস। তার সঙ্গে মেয়াদ ফুরানো ড্রিঙ্কস, দই, পনির সবই মিলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় দু’শোর বেশি দোকান মালিককে নোটিস দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম বাজারে বিরিয়ানির মধ্যে মেটালিন ইয়েলো মেশানোর ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন সেখানকার ফুড সেফটি অফিসার সন্তু পাল। এধনের বিষাক্ত রং অঙ্গহানি থেকে ক্যানসারের মতো মারণব্যাধি ডেকে আনে। এখন ভেজাল বিরোধী অভিযান আরও শক্তপোক্ত হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।