


নয়াদিল্লি: বাবা-মায়ের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রতিবাদের প্রশ্নে তিনি রয়েছেন যন্তরমন্তরের আন্দোলনকারীদের পাশেই। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার ঘটনায় সমাজ মাধ্যমে নিজের খুশি চেপে রাখেননি বিজেপির ভুবনেশ্বরের সাংসদ অপরাজিতা ষড়ঙ্গীর মেয়ে অর্চিতা। স্বভাবতই মেয়ে অর্চিতা শচীন রাহার জন্য বিপাকে পড়েছেন সাংসদ। শনিবার ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা সামনে আসার পরেই ইনস্টাগ্রামে অর্চিতার পোস্ট, ‘নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।’ বিতর্কের আরও কারণ, ধর্মেন্দ্র ওড়িশার সম্বলপুরেরই সাংসদ। বলাবলি শুরু হয়, তাহলে কী দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই অর্চিতার এমন পোস্ট? এ প্রসঙ্গে অপরাজিতার ব্যক্তিগত সচিব ধনেশ্বর বারিক বলেন, ‘সকলেরই মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তাঁর মেয়ে জেন জির প্রতিনিধি।’ পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য তাঁর উপর চাপ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অর্চিতা অপর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য ধর্মেন্দ্র প্রধানের পক্ষ থেকে মাকে মেসেজ পাঠানো হবে। আগেও এমনটি হয়েছে। তবে আমি এ কাজ করব না। জয় জগন্নাথ। জয় হিন্দ।’ একই রকম বার্তা দিয়ে অসমে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা অসম গণ পরিষেদের নেতা কেশব মহারাজের মেয়ে দিবিসা। এইজন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের সম্মুখীন হতে হয়েছে মন্ত্রীমশাইকে। এই অবস্থায় মন্ত্রী কেশবের পাশেই দাঁড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর কথায়, ‘ওঁকে ট্রোল করবেন না। ওঁর মেয়ে হয়তো বাবার রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুসরণ করে না।’ দেশের অন্যান্য প্রান্তের মতো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে বিক্ষোভ শুরু হয় গুয়াহাটিতেও। বৃহস্পতিবার সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দেন দিবিশা। এই নিয়ে একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন দিবিশা। এ প্রসঙ্গে শনিবার হিমন্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাঁর মেয়ের জন্য কেশব মহারাজকে ট্রোলের শিকার হতে হবে। ভবিষ্যতে আমার ছেলে হয়তো আইনজীবী হিসাবে আমার অপছন্দের কারও হয়ে আদালতে লড়াই করবে।’ হিমন্তের মতে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে, তাঁদের আচরণের দায় বাবা-মায়ের উপর বর্তায় না।