


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সকাল থেকে অন্তত ৫ হাজার দিল্লি পুলিশ। মোতায়েন ছিল র্যাফ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু ভোর যখন সকালের দিকে গড়িয়েছে, তখনই দিল্লি পুলিশের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার মধ্যে বিরাট বড় ফারাক দেখা যায়। কারণ যন্তরমন্তরের জমায়েতের ভিড় উপচে ছড়িয়ে পড়ে রাইসিনা মার্গ, জনপথ রোড, রফি মার্গ, অশোক রোড, রাজেন্দ্র প্রসাদ রোড হয়ে ইন্ডিয়া গেটের কাছে। সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানে যতটা দিশাহারা দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশকে, ঠিক ততটাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিস্মিত বিজেপিও। সরকারও ক্ষুব্ধ গোয়েন্দা ব্যর্থতায়। দিল্লি পুলিশ আগাম অনুমান করতে পারেনি জেন জি এভাবে ভিড় জমাবে। ফলে গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলাও করেছে অপরিণত মনস্কতার সঙ্গে। কারণ প্রবল লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, মারধর, আটক করার মধ্যে আগ্রাসন ও দমন-পীড়নের চিত্রই বেশি পরিস্ফূট হয়েছে। সকাল থেকে দিল্লি মেট্রো কর্পোরেশন মধ্য দিল্লির একের পর এক স্টেশন থেকে বেরনোর পথ বন্ধ করেছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বাহাদুর শাহ জাফর রোড অথবা অশোক রোড দুইই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরকার চরম উদ্বিগ্ন একটিই প্রশ্নে। তা হল, এই বিরাট জনতা কোথা থেকে এল? পরে জানা যায়, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও পাঞ্জাবের একাংশ থেকে জেন জি এসেছে বাসে, ট্রেনে কয়েকদিন ধরেই। এরকম প্রায় ১ লক্ষ জনতার জমায়েতের কোনও আন্দাজই ছিল না পুলিশের। তাহলে কি দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে কোনো চাপা ক্ষোভ? আর সেই ক্ষোভের প্রথম বিস্ফোরণের আভাস সোমবারের দিল্লি দেখল? জয় ভীম থেকে বন্দেমাতরম। ইনকিলাব জিন্দাবাদ থেকে জয় হিন্দ। দলহীন জনতার সবরকম স্লোগানে মুহূর্মুহূ কেঁপে ওঠে রাজপথ। অনশন আন্দোলন ও ধরনার স্লোগান ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাই। বিক্ষোভকারীদের সোমবারের অভিযানের স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করা হয়। বিজেপি দাবি করেছে এইসব স্লোগান থেকেই স্পষ্ট যে, এই আন্দোলন আসলে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর ককরোচ জনতা পার্টি পালটা সুর চড়িয়ে ৫১ বছরের পুরানো একটি স্লোগান আবার দিয়েছে, সিংহাসন খালি করো কি জনতা আতি হ্যায়। ১৯৭৫ সালে জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলনের স্লোগান ছিল ইন্দিরা গান্ধীর বিরুদ্ধে!