


প্যারিস: ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের আগুন। শুরুটা হয়েছিল ফ্রান্সে। ধীরে ধীরে ইতালি, আলবেনিয়া, স্পেন, সার্বিয়া ও পর্তুগালেও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় পুলিশ ও বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। অনেক ক্ষেত্রে বিক্ষোভ ও জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একইসঙ্গে চলে দেদার ধরপাকড়।
স্কুলশিক্ষায় বরাদ্দে ঘাটতি, মূল্যবৃদ্ধি থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশা। বিভিন্ন ইস্যুতে ক্রমশ জমছে ক্ষোভের পাহাড়। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকেই রাজধানী প্যারিস সহ ফ্রান্সের একাধিক শহরে রাস্তার দখল নেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবার সবথেকে বড়ো বিক্ষোভের সাক্ষী ছিল প্যারিস। শ্রমিক সংগঠন, আম
জনতার পাশাপাশি পথে নামে পড়ুয়ারা। সারা ফ্রান্সে প্রায় চার লক্ষের বেশি জনতা পথে নামে। এই আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, শনিবার রাত পর্যন্ত প্রায় ১৩০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশের অস্থির অবস্থার জন্য ম্যাক্রঁ সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বামপন্থী নেতা তথা প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-ল্যুক মেলঁশোঁ। উল্লেখ্য, আগামী বছরেই ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
ফ্রান্সের পাশাপাশি শনিবার ইতালির রোম, মিলান, তুরিন, ফ্লোরেন্স সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ দেখায় যুব সমাজ। বেশ কিছু জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে বাজি, বোতল, পাথর ছোড়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কমপক্ষে ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শতাধিক অপ্রাপ্তবয়স্ককেও কিছুক্ষণের জন্য আটক করা হয়। বিক্ষোভ দমনে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। শুধুমাত্র মিলানে অতিরিক্ত ৫০০ জন সেনা পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এদিকে, আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় সরকারি বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হন বহু মানুষ। শনিবার কৃষি মন্ত্রকের ভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস, জল কামান ছোড়ে পুলিশ। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদেও পেনশন বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। ব্যতিক্রম ছিল না পর্তুগালের রাজধানী লিসবনও। রবিবার রোসারিও স্কোয়ারে একশোর বেশি তাঁবুতে অভিযান চালায় পুলিশ। বহু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সার্বিয়াতেও রবিবার আন্দোলনে শামিল হয় পড়ুয়ারা।