


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণের গোবিন্দপুর রেল ক্রসিংয়ে এবার সাবওয়ে করবে রেল। গত ১৭ জুলাই এখানেই ট্রেন ও পুলকারের সংঘর্ষে চার শিশু-সহ পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জখম হয় আরও চারজন। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় বাসিন্দারা। তাদের দাবি ছিল, এখানে সাবওয়ে করতে হবে। স্থানীয়দের দাবি মেনে এখানে রেলের তরফে সাবওয়ে নির্মাণ হবে বলে জানা গিয়েছে। ফলে খুশি বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসনের কাছে এই সাবওয়ের জন্য এনওসি চেয়ে পাঠানো হচ্ছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইছে রেল।
রেলের এক অধিকারিকের কথায়, ওই রেল ক্রসিংইয়ের গেটে আমরা দ্রুত সাবওয়ের কাজ শুরু করব। ওই রেল লাইনের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় রেল গেট তুলে দিয়ে সাবওয়ে হবে। ওইদিন গোবিন্দপুরে রেল ক্রসিংয়ের গেট খোলা থাকাকালীনই চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। সকাল ৬টা ৪০ নাগাদ সেই সময় লাইন পার করছিল স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের ওই পুলকার ও এক সাইকেল আরোহী। দ্রুতগতিতে আসা ট্রেনটি ধাক্কা দেয় গাড়িটিকে। মৃত্যু হয় পাঁচজনের। জখম হয় বেশ কয়েকজন। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে সরাসরি গোবিন্দপুর গ্রামে চলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরে এই সাবওয়ে তৈরির কথা জেনে কিছুটা নিশ্চিন্ত হন গ্রামবাসীরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে যাতে আরও সুরক্ষা বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে যদি রেলমন্ত্রীকে আমাকে কিছু বলতে হয় সেটা বলব।
এদিকে ওই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে রেল দপ্তর ও পুলিশ। গেটম্যান ও স্টেশন মাস্টারের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক বিভাগের আধিকারিকরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণের বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, এই দুর্ঘটনা না ঘটলেই ভালো হত। তবে রেলের তরফে আরও আগে এখানকার সুরক্ষা নিয়ে ভাবা উচিত ছিল। এখন যত দ্রুত সম্ভব এখানে সাবওয়ে হয় তাতেই মঙ্গল। দুর্ঘটনায় মৃত তামান্না খাতুনের দাদু শামিম আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার পর রেলের টনক নড়ল। ওর মতো আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই রেলগেট নিয়ে আগে থেকেই অনেক অভিযোগ ছিল। এখন সব রেলগেট তুলে দিয়েই সাবওয়ে করা উচিত। রেল দ্রুত এখানে কাজ শুরু করুক।