


বিদেশ বসু: সাতটা ডুরান্ড কাপ ফাইনাল খেলেছি। অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, সেরা কোনটা? ১৯৮৪ সালের কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়। দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামের টানেল দিয়ে মাঠে ঢোকার সময় বুকটা কেঁপে উঠেছিল। তার আগেও বহু বড়ো ম্যাচ খেলেছি। কিন্তু সেবারেরটা স্পেশাল। শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচে প্রতিপক্ষ ইস্ট বেঙ্গল। তিরতিরে টেনশনের স্রোত। তার উপর দর্শক ঠাসা গ্যালারি। প্রদীপদা (কোচ পি কে ব্যানার্জি) আগেই বলেছিলেন, ভৌমিকদা’র (সুভাষ ভৌমিক) পরিবর্তে আমি নামব। তাই হল। মানসিক প্রস্তুতি ছিলই। তখনও ম্যাচ গোলশূন্য। মনে পড়ছে, লাল-হলুদ গোলরক্ষক ভাস্কর লম্বা পাস দেয় হাফলাইনের কাছে দাঁড়ানো মনাকে। ও বল ধরে ভাবছিল, কাকে পাস দেবে। সেই সুযোগে আমি ছোঁ মেরে বল কেড়ে নিয়েছিলাম। একটা স্ট্রোক দিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখি ভাস্কর গোলপোস্ট থেকে এগিয়ে রয়েছে। সঙ্গেসঙ্গে উঁচু শট নিই। সেই গোল সত্যিই মধুর। সতীর্থদের ভালোবাসার অত্যাচারে ততক্ষণে আমি আপ্লুত। সেই গোলেই ডুরান্ড কাপ জিতেছিল মোহনবাগান।
অতীতে ঐতিহ্যশালী টুর্নামেন্টের ফাইনালে পুরস্কার দিতেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর হাত থেকে প্রাইজ নেওয়ার মুহূর্ত ভোলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, টিম হোটেলেও সমর্থকদের ঢল। মনে আছে, এক অনুরাগী রাত আড়াইটের সময় চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই আবেগের টানেই তো আমরা ফুটবল খেলেছি। সেবার বাবলুদা কোনও কারণে সেবার ডুরান্ড খেলতে যায়নি। কোচ প্রদীপদা স্টপারে খেলিয়েছিলেন শ্যাম থাপাকে। এখন ভাবি, সত্যিই কত বড়ো খেলোয়াড় ছিল শ্যামদা। অনভ্যস্ত জায়গায় খেলেও মাছি গলতে দেয়নি । ডুরান্ডে এমন কত স্মৃতি যে আছে, বললে রাত কেটে যাবে। এবারও ফের ফাইনালে মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল। দুই দলই টাই-ব্রেকারে সেমি-ফাইনালের বাধা টপকেছে। রবিবার লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তা আশা করাই যায়। তবে মোহন বাগানে ম্যাচ উইনার অনেক বেশি। ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতাও প্রচুর। ব্যক্তিগত মত, জেমি ম্যাকলারেন আর মিগুয়েলের জন্যই এগিয়ে থাকবে সবুজ-মেরুন।