


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত যেসব পেনশন প্রাপকের কলকাতা পুরসভা এলাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, তাঁদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থদপ্তর। এনিয়ে গত কয়েক মাস ধরে জটিলতা চলছিল। কলকাতা পুর এলাকার বাইরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা পেনশন প্রাপকরা ইতিমধ্যে দু’দফায় তাঁদের বকেয়া ডিএ-র পুরোটাই পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার জন্য কলকাতায় যাঁদের অ্যাকাউন্ট আছে, তাঁদের বকেয়া ডিএ প্রাপ্তি আটকে যায়। বিষয়টি নিয়ে অ্যাকাউন্ট জেনারেল (এজি) অফিস অর্থদপ্তরকে চিঠি লিখেছিল। রাজ্য অর্থদপ্তর মঙ্গলবার জানিয়েছে, ২০০৮ এর এপ্রিল থেকে ২০১৯ এর ডিসেম্বরের মধ্যে সর্বভারতীয় মূল্য সূচক অনুযায়ী বকেয়া ডিএ-র ৫০ শতাংশ এখনই প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যাবে। তবে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানগুলির অবসরপ্রাপ্ত পেনশনপ্রাপকদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পুরসভা, স্বশাসিত সংস্থার পেনশন প্রাপকরা এখনও কোনো বকেয়া ডিএ পাননি। জাতীয়তাবাদী পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মুখ্য আহ্বায়ক ও রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের প্রবীণ নেতা মনোজ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত এখনও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত আছেন। সরকারের এটা দ্রুত মেটানো উচিত।
গত ১ জুন কয়েকটি সরকারি কর্মী সংগঠনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গটি ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন। কয়েকদিন আগে একটি কর্মী সংগঠনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্তর বৈঠকেও এনিয়ে আলোচনা হয়। গ্রান্ট ইন এইড সংস্থাগুলিতে বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যাপারে যে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা আছে, সেটা সেদিন সরকারি তরফে বলা হয়। কলকাতার বাইরে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা সরকারি অফিসের অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ট্রেজারি থেকে ছাড়া হয়। কলকাতার ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয় ‘পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস’ অফিস থেকে। কলকাতার ব্যাংকগুলির কাছে পুরানো বকেয়া ডিএ-র হিসাব নেই বলা হচ্ছিল। সেই সমস্যা মেটাতে আইএফএমএস-এর অধীনে ‘ব্যাংক পেনশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল’ খোলা হয়েছে।