


নয়াদিল্লি: কোন পথে দেশের অর্থনীতি? সরকারের প্রকাশিত বৃদ্ধির হার সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে তরজা চলছেই। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি বৃহস্পতিবারও সগর্বে প্রচার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি উইভারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আজ ব্যাপক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বহু অংশে সংঘাত অব্যাহত। খাদ্য, জ্বালানি বা সরবরাহ ব্যবস্থা— প্রতিটি ক্ষেত্রই অনিশ্চয়তার দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভারতের অর্থনীতি নিজের গতি বজায় রেখেছে। গত ত্রৈমাসিকে আমরা ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি অর্জন করেছি। আজ ভারতের অগ্রগতির কাহিনি বিশ্বের কাছে আস্থা ও নতুন সুযোগের উৎস হয়ে উঠছে।’ যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মন্তব্যেও চিঁড়ে ভেজেনি। জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যানে ‘কারচুপি’ ইস্যুতে ফের সরব হয়েছে কংগ্রেস। সরকারের প্রকাশিত তথ্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় চারটি প্রশ্ন তুলেছেন। সেগুলি হল—গত চার বছরের জিডিপি অনুমানে এত বড়ো অঙ্কের সংশোধন কেন করা হয়েছিল? ভারতের অর্থনীতির আনুমানিক আকারে মোট ৪৩ লক্ষ কোটি টাকা হ্রাসের ব্যাখ্যা কী? নতুন কার্যপদ্ধতির কোন উপাদানগুলি এই ধরনের পরিবর্তন এনেছে? নতুন পদ্ধতিটি প্রণয়নে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, এব্যাপারে কার সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল এবং এর বিভিন্ন উপাদান গ্রহণের ভিত্তি কী ছিল?
প্রকৃত জিডিপি গণনায় মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব হ্রাসকারী এমন একটি মুদ্রাসংকোচন পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই কংগ্রেস নেতা। জয়রামের বক্তব্য স্পষ্ট, সাধারণত সরকারের ডিফ্লেটর এবং এই বাস্তব মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যানের মধ্যে ব্যবধান কম থাকে, প্রায় ১-১.৩ শতাংশ পয়েন্ট। তবে এবার তা বেড়ে ৩.৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা দৃশ্যত এযাবৎকালের সবচেয়ে বড়ো ব্যবধান। সরকারের নতুন পরিসংখ্যান উৎপাদন এবং পণ্য ব্যবহার— এই দু’টি ক্ষেত্রে সবচেয়ে ‘নড়বড়ে’ বলে মনে হচ্ছে। শুধু রাজনীতিকদের মধ্যে নয়, আর্থিক বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে তরজা চলছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও। মোদি সরকারের প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গই প্রথম ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, গত বছর কারেন্ট প্রাইজ জিডিপি ছিল ৮৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা সংশোধন করে ৮০ লক্ষ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। না হলে জিডিপি বৃদ্ধি হার মাত্র ২.৬ শতাংশ হত। যদিও এই ব্যাখ্যার বিপরীতে হেঁটে মোদি সরকারের পরিসংখ্যানকেই মান্যতা দিচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর নীলকান্ত মিশ্র। গর্গের ব্যাখ্যাকে খারিজ করে এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, যদি জুন-২০২৫ ত্রৈমাসিকের ‘আসল’ ভিত্তি ব্যবহার করা হত, তাহলে জুন-২০২৬ ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধি অনেক কম হত। এই অজ্ঞতাপ্রসূত ও চরম ভ্রান্তিকর দাবি দেখে আমি হতবাক।’