


নয়াদিল্লি: হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার নয়। নিজেদের মধ্যে গোপনে যোগাযোগ রাখতে এখন জঙ্গিদের অন্যতম হাতিয়ার পর্ন অ্যাপ সহ একাধিক এনক্রিপটেড প্ল্যাটফর্ম! গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ও পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যোগাযোগ রক্ষায় এমনই কৌশল নিয়েছে। এর কারণ হল, প্রচলিত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের উপর নিয়মিত নজরদারি চালায় গোয়েন্দারা। সেক্ষেত্রে ধরা পড়ার আশঙ্কা সবথেকে বেশি। তাই কোটেক্স, কোনিয়নের মতো ‘টর’ ভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করছে জঙ্গিদের হ্যান্ডলাররা। এখানেই শেষ নয়। জানা গিয়েছে, একটি ফরাসি অ্যাপের সাহায্যেও বার্তা আদানপ্রদান করে থাকে জঙ্গিরা। এই বিশেষ অ্যাপে সিম কার্ড বা ফোন নম্বর ছাড়াই যোগাযোগ করা যায়। একইসঙ্গে মুনচ্যাটের মতো ভিয়েতনামে তৈরি বেনামী প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে আমেরিকায় নির্মিত ‘টর’ নেটওয়ার্ক। এভাবেই গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে যোগাযোগের তথ্য গোপন করছে জঙ্গিরা।
সূত্রের খবর, বর্তমানে ভারতে একাধিক পর্ন সাইট ও অ্যাপ নিষিদ্ধ। তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয় সন্ত্রাসবাদীরা। ভিপিএনের (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) মাধ্যমে সেগুলি দিব্যি ডাউনলোড করে নেওয়া হচ্ছে। তারপর সেসব অ্যাপের সাহায্যে জম্মু-কাশ্মীরের যুব সমাজকে মগজধোলাই করছে জঙ্গিরা। ভূস্বর্গে আরও কিছু অ্যাপকে কাজে লাগানো হচ্ছে। ২জি বা এজ নেটওয়ার্ক স্পিডেও সেগুলি ব্যবহার করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নাম নথিভুক্ত ফোন নম্বর বা ইমেল পর্যন্ত লাগে না।
এনক্রিপটেড অ্যাপের পাশাপাশি বিদেশি ভার্চুয়াল সিমকার্ড ব্যবহার করেও তথ্য পাঠাচ্ছে জঙ্গিরা। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার সময় প্রথম বিষয়টি গোয়েন্দাদের নজরে নজরে আসে। তদন্তে নেমে এনআইএ জানতে পারে, আত্মঘাতী জয়েশ জঙ্গি ও তার সহযোগীরা ৪০-এর বেশি ভার্চুয়াল সিম ব্যবহার করেছিল।